ছাতা নিয়ে আয়, ভিজব
( সুবল সরদার )

বৃষ্টি এতো মিষ্টি। তাই এতো সৃষ্টি, এতো গান। বৃষ্টিমুখর বাদল দিনে সারাদিন রিমঝিম রিমঝিম। শান্ত পৃথিবী। শান্ত কলকাতা। কলকাতার ব্যস্ততা থেমে সঙ্গীতের সুর ধরে।
আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি নামল মঙ্গলবার দুপুরে। কলকাতা হঠাৎ চুপ। ধোঁয়া নেই, গরম বাতাস নেই। কলকাতা তখন তিলোত্তমা রূপ ধরে। বৃষ্টি কেমন করে ঝরে পড়ছে তিলোত্তমার বুকে, গঙ্গার উজানে, ফুলের বুকে। পাখির ডানা স্তব্ধ, নীড়ে থেকে চোখ মেলে দূর আকাশে। বৃষ্টি ভেজা মন গান ধরে, প্রেমিকার খোঁজ করে।
ধর্মতলার বাসস্ট্যান্ডে ও দাঁড়িয়েছিল হলুদ ছাতা হাতে। আমি ছুটতে ছুটতে ওর ছাতার নীচে যাচ্ছি। ভিজে পথে আমার পায়ের ছাপ পড়ছে।
"ভিজবি তো?" ও হাসল।
"ভিজতেই তো এসেছি।" আমি বললাম।
ট্রাম লাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছি দুজন। ওর ছাতার কানা থেকে টুপটাপ জল পড়ছে আমার কাঁধে। ও প্রতিবার কাত করে নিচ্ছে ছাতাটা, আর আমি প্রতিবার ইচ্ছে করে ওর দিকে সরে যাচ্ছি একটু একটু ।
গঙ্গার ঘাটে এসে থামলাম। মেঘলা আকাশ, জলে ঢেউ নেই। ও আচমকা পকেট থেকে একটা ভিজে চিরকুট বের করল। কালির অক্ষরগুলো একটু গলে গেছে বৃষ্টিতে।
"এটা তোকে তিন মাস আগে লিখেছিলাম। বৃষ্টির দিনে দেব বলে রেখে দিয়েছিলাম।" ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে মুখ মুছিয়ে দিতে দিতে চিরকুটটা হাতে দিল।
চিরকুটে লেখা: "তোর হাসিটা কলকাতার প্রথম বৃষ্টির মতো। তুই এলেই আমার সব গরম, সব দুঃখ জুড়িয়ে যায়। তুই এলেই ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসে।"
আমি উত্তর দিলাম না। শুধু ওর ছাতার ডাঁটিটা শক্ত করে ধরলাম। বৃষ্টি তখন আমাদের দুজনের মাঝখানের ফাঁকটাও ভিজিয়ে দিচ্ছে। বৃষ্টি প্রেমের এক রূপ, গানের সুর, ভালোবাসার গল্প।
আমাদের প্রেমের তারিখ ১৮ই আষাঢ়, মঙ্গলবার দুপুর। বৃষ্টি ছাড়া প্রেম হয় না, আর কলকাতা ছাড়া বৃষ্টি হয় না।
রিমঝিম এখন মেসেজ করে -'ছাতার নীচে আয়, ভেজাব' । উত্তরে লিখি - "ছাতা নিয়ে আয়, ভিজব।" মনে মনে ভাবছি ভিজব বলেই তো তোর কাছে এসেছি। আমাকে ভিজতেই হবে।
Subal Chandra Sardar